ব্রাজিলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলো সম্প্রতি এক অনুপ্রেরণামূলক গল্প শোনালেন—চীনা বাঁশের গল্প। এই বাঁশের বীজ বপনের পর প্রথম চার বছর মাটির ওপরে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা যায় না। প্রতিদিন পানি ও যত্ন দেওয়া হলেও মনে হয় যেন কিছুই ঘটছে না। কিন্তু পঞ্চম বছরে হঠাৎ করেই বাঁশ দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই আকাশছোঁয়া উচ্চতায় পৌঁছে যায়।
আসলে এই দীর্ঘ সময়জুড়ে বাঁশটি মাটির নিচে শক্ত শিকড় গড়ে তোলে। আর সেই শক্ত ভিত্তিই একদিন তাকে দ্রুত উপরে উঠতে সাহায্য করে।
দানিলো এই গল্পের মাধ্যমে বর্তমান ব্রাজিল দলকে ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন। মরক্কোর বিপক্ষে ড্রয়ের পর দলটি সমালোচনার মুখে পড়েছে। মাঠে খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে দানিলোর বিশ্বাস, ব্রাজিল এখনো নিজেদের ভিত্তি তৈরি করার পর্যায়ে রয়েছে।
গত কয়েক বছরে ব্রাজিল দলে একাধিক কোচ পরিবর্তন হয়েছে, এসেছে নতুন কৌশল ও নতুন পরিকল্পনা। ফলে দলটি দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল পরিচয় গড়ে তুলতে পারেনি। বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তিও তুলনামূলকভাবে নতুন, তাই তিনি এখনো দলকে নিজের দর্শনের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছেন।
মরক্কোর বিপক্ষে ফল হতাশাজনক হলেও প্রতিপক্ষের শক্তি বিবেচনায় সেটিকে সম্পূর্ণ ব্যর্থতা বলা যায় না। তবে ব্রাজিলের খেলায় সেই চিরচেনা ছন্দ, সৃজনশীলতা ও সৌন্দর্যের অভাব ছিল স্পষ্ট।
অন্যদিকে নেইমার অনুশীলনে ফিরলেও শারীরিক সমস্যার কারণে হাইতির বিপক্ষে মাঠে নামতে পারছেন না। তবুও তাঁর উপস্থিতি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নেইমার মাঠে থাকলে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের বিশেষ মনোযোগ তাঁর ওপর থাকে, যা অন্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের জন্য বাড়তি জায়গা তৈরি করে।
হাইতির বিপক্ষে ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু তিন পয়েন্ট অর্জনের জন্য নয়, নিজেদের পরিচয় নতুন করে প্রতিষ্ঠা করার জন্যও এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেক। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিজেদের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং আবারও প্রমাণ করা—ব্রাজিল মানেই সুন্দর ফুটবল, আত্মবিশ্বাস এবং আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন।
চীনা বাঁশের মতোই হয়তো ব্রাজিল এখনো শিকড় শক্ত করছে। সেই শিকড় যদি যথেষ্ট মজবুত হয়, তবে একদিন তারাও আবার বিশ্ব ফুটবলের আকাশে উঁচু হয়ে দাঁড়াবে।

